ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যচ্যুত করে ধ্বংস করেছে সৌদি আরবের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি দেশটির পবিত্র মক্কা ও মদিনা অঞ্চলকে লক্ষ্য করে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। তবে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সময়োচিত পদক্ষেপের পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে সৌদি আরবের অন্তত চারটি এলাকার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট তথ্য জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানায়, শনিবার প্রতিহত করা ক্ষেপণাস্ত্র দুটির বিভিন্ন অংশ মক্কা, জেদ্দা, তায়েফ ও রাবিগ এলাকায় গিয়ে পড়ে। বেসামরিক প্রতিরক্ষা মুখপাত্রের দেওয়া তথ্যমতে, ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু অংশ মক্কার ওয়াদি আল-মাগমাস এলাকায় পড়েছিল। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের সময় তৈরি হওয়া অন্য ধ্বংসাবশেষগুলো জেদ্দার আল-নুজহা এলাকা, তায়েফের ওয়াদি জলিল এবং রাবিগ গভর্নরেটের মাসতুরাহ সেন্টারে আঘাত হানে। এ ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে নির্ধারিত নিরাপত্তা বিধি ও পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, সৌদি কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্যের পর ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা মক্কা ও মদিনার মতো ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোকে নিশানা করার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছে।
ইসলামের পবিত্র তীর্থস্থান সংলগ্ন এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে হুতিদের হামলার অভিযোগ অবশ্য এটাই প্রথম নয়। এর আগে গত ১লা অক্টোবর সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দাবি করেছিল, তার দুই দিন আগে মদিনার তাইবা বিদ্যুৎ বণ্টন কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল ইয়েমেনের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। ওই হামলায় একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পুরো শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছিল। জোটের তদন্ত কর্মকর্তা এবং ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণ করে এ ঘটনার নেপথ্যে হুতিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে বলে জানানো হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেই ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তৎকালীন সময়ে হুতিদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এরও আগে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, মক্কার দক্ষিণাঞ্চলে একটি হুতি ড্রোন শহরের নির্দিষ্ট আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের পর সেটি ছিল মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের দ্বিতীয় সামরিক চেষ্টা। যদিও প্রতিবারের মতোই হুতিরা মক্কা বা অন্য কোনো ইসলামি পবিত্র স্থানকে নিশানা করার তথ্য অস্বীকার করে আসছিল। তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই দিনই সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ মক্কা, ইয়ানবু, তায়েফ, জেদ্দা এবং তাবুক অঞ্চলের জন্য একাধিক সতর্কবার্তা জারি করেছিল।