মাঠের গোলপোস্টের পাশে পড়ে থাকা এক টুকরো কাপড়ের দিকে হঠাৎ চোখ যায় আর্জেন্টাইন তারকা জিওভানি লো সেলসোর। নিজের খেয়ালেই তিনি সেটি তুলে নেন। কাপড়ের সেই টুকরোটিতে লেখা ছিল, ‘ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার’। আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের এই আবেগ যেমন ঐতিহাসিক, তেমনই দলটির অন্যতম প্রাণপুরুষ লিওনেল মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারও এক অনন্য মহাকাব্য।
স্প্যানিশ লা লিগার ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটি লিওনেল মেসির দখলে। এক মৌসুমে লা লিগায় সর্বোচ্চ ৫০টি গোল করার পাশাপাশি ইউরোপীয় ফুটবলে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ৭৩টি গোলের কীর্তি গড়েছেন তিনি। এছাড়া এক বর্ষপঞ্জিতে সর্বোচ্চ ৫১টি গোল এবং এল ক্লাসিকোতে সর্বোচ্চ ২৫টি গোল করার রেকর্ডও এই আর্জেন্টাইন তারকার। লা লিগায় সবচেয়ে বেশি গোল সহায়তার বা অ্যাসিস্টের রেকর্ডটিও তাঁর নামের পাশে শোভা পাচ্ছে। একই সঙ্গে প্লেমেকার ও গোলদাতার ভূমিকায় অনন্য মেসি গোল করানো এবং আক্রমণ সাজানো—উভয় ক্ষেত্রেই দলকে নেতৃত্ব দেন। জাতীয় দল ও ক্লাবের হয়ে ইতিমধ্যে তাঁর গোলসংখ্যা ৬০০ পেরিয়ে গেছে।
শৈশবেই মেসির অসাধারণ ফুটবল প্রতিভার কথা ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে কিশোর মেসির ফুটবল প্রতিভা ইউরোপের অনেক ক্লাবকে আকৃষ্ট করলেও তাঁর গ্রোথ হরমোনের সমস্যা এবং এর ব্যয়বহুল চিকিৎসার কারণে অনেকেই পিছিয়ে যায়। অবশেষে ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনা তাঁকে তাদের যুব একাডেমিতে নিয়ে আসে। ট্রায়ালে মেসির খেলা দেখে মুগ্ধ হয়ে যুব একাডেমির তৎকালীন পরিচালক হাতের কাছে কোনো কাগজ না পেয়ে নিজের রুমালে চুক্তিপত্র লিখে ফেলেছিলেন বলে একটি কথা প্রচলিত আছে। এরপর ২০০৪ সালের অক্টোবরে মাত্র ১৭ বছর বয়সে বার্সেলোনার মূল দলে মেসির অভিষেক হয়। ২০০৬ বিশ্বকাপের আগেই তিনি তারকাখ্যাতি পেয়ে যান, তবে তাঁর আসল উত্থান ঘটে ২০০৭ সাল থেকে। সে বছর ব্যালন ডি’অর ও ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের তালিকায় সেরা তিনে জায়গা করে নেন তিনি।
মাঠের বাইরে ২০১৭ সালের জুনে মেসি তাঁর দীর্ঘদিনের বান্ধবী আন্তোনেয়া রোকুজ্জোকে বিয়ে করেন। রোকুজ্জোকে তিনি ৫ বছর বয়স থেকেই চিনতেন এবং ২০ বছর বয়সে তাঁদের প্রেমের সম্পর্ক প্রথম প্রকাশ্যে আসে। এই দম্পতির ঘরে রয়েছে তিন ছেলে—২০১২ সালে জন্ম নেওয়া থিয়াগো, ২০১৫ সালে জন্ম নেওয়া মাতেও এবং ২০১৮ সালে জন্ম নেওয়া চিরো। বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই ফুটবলার ইউনিসেফ ও নিজের গড়া ‘মেসি ফাউন্ডেশন’ সহ বিভিন্ন দাতব্য সংস্থার সঙ্গে যুক্ত আছেন এবং শিশুদের ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কিছু বিতর্কও তাঁর সঙ্গী হয়েছে। স্পেনে কর ফাঁকির অভিযোগে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ছাড়াও আর্জেন্টিনার হয়ে এক ম্যাচে রেফারিকে গালি দিয়ে তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি, যদিও পরে সেই শাস্তির মেয়াদ কমানো হয়। সব বাধা পেরিয়ে প্রায় একার জাদুতে ২০১৮ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে গিয়েছিলেন মেসি।
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড ফুটবল দলের মধ্যকার ঐতিহাসিক দ্বৈরথ সবসময়ই ফুটবলপ্রেমীদের রোমাঞ্চিত করে। আগামী ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল (World Cup Football 2026) নিয়েও বিশ্বজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই (2026-07-15) তারিখের একটি ছবিতেও এই দুই দলের লড়াইয়ের আবহ দেখা যায়, যার ফাইল নাম 2026-07-15T213841Z864818289UP1EM7F1N6HM3RTRMADP3SOCCER-WORLDCUP-ENG-ARG.JPG এবং এটি প্রথম আলোর সিস্টেমে prothomalo-bangla/2026-07-15/rzwq1cnu/2026-07-15T213841Z864818289UP1EM7F1N6HM3RTRMADP3SOCCER-WORLDCUP-ENG-ARG.JPG হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।
আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল | Argentina Football Team
আর্জেন্টিনা ফুটবল দল, Argentina Football Team