পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান সফলভাবে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। শুক্রবার কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এই চালানটি রূপপুরে আনা হয়। শনিবার সকাল ৭টা ১৭ মিনিটের দিকে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় জ্বালানি বহনকারী গাড়িগুলো প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।
এর আগে শুক্রবার রাশিয়া থেকে বিশেষ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জ্বালানি পৌঁছায়। সেখান থেকে শনিবার রাত ৩টার দিকে জ্বালানিবাহী তিনটি লরি রূপপুরের উদ্দেশে রওনা দেয় এবং সেনাবাহিনীর পাহারায় প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়। পরিবহনের সময় মহাসড়কের বিভিন্ন মোড়ে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি ছিল এবং সেনাবাহিনীর পাশাপাশি এসআরবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। মহাসড়কে যানজট এড়াতে সাময়িকভাবে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম ইউনিটের জ্বালানি দেশে আসার পর অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে আরও চারটি চালানে জ্বালানি রূপপুরে নেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরের মে মাসে প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে জ্বালানি স্থাপন করা হয়। প্রথম ইউনিটের ব্যবহৃত জ্বালানির এক-চতুর্থাংশ পরিবর্তনের জন্য ৩ অক্টোবর অতিরিক্ত জ্বালানি আনা হয়। এছাড়া দ্বিতীয় ইউনিটের দ্বিতীয় চালান ২১ অক্টোবর এবং তৃতীয় চালান ২৭ অক্টোবর রূপপুর প্রকল্পে পৌঁছায়। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহ করবে এবং এরপর পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশকে তা আমদানি করতে হবে। ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে শুক্রবার পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই তা জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।