নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে মরিচের গুঁড়া ছুড়ে পালিয়ে গেছেন ২২ মামলার আসামি আনোয়ার হোসেন মাসুদ ওরফে ‘পিচ্ছি মাসুদ’। গত শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মদিনা বাজার এলাকার তবারক আলী ভূঁইয়া বাড়িতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।
অভিযান চলাকালে মাসুদের পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে লক্ষ্য করে মরিচের গুঁড়া ছুড়ে মারেন। এতে পুলিশের দুই কর্মকর্তা আহত হন। আহতরা হলেন কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন চন্দ্র দাস এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. সুলতান আহম্মদ। মরিচের গুঁড়ার তীব্রতায় পরিস্থিতি প্রতিকূল হয়ে পড়লে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পিচ্ছি মাসুদের ব্যবহৃত একটি খেলনা পিস্তল উদ্ধার করেছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পিচ্ছি মাসুদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতি, হত্যা, মাদক ও পুলিশের ওপর হামলাসহ মোট ২২টি মামলা রয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া, হামলা এবং মরিচের গুঁড়া ছুড়ে আসামিকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অভিযোগে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
৩৩ বছর বয়সী পিচ্ছি মাসুদ ওই এলাকার মো. আবুল কাশেম ওরফে আবুল খায়েরের ছেলে। জানা গেছে, তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৩ মে পিচ্ছি মাসুদ ও কেচ্ছা রাসেলের নেতৃত্বে মেয়রের প্রতিপক্ষের ওপর অস্ত্র হাতে গুলি চালানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।