বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখতে না পারলেও ব্যক্তিগত অর্জনে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন ফ্রান্সের মিডফিল্ডার মাইকেল ওলিসে। মায়ামিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে দলগতভাবে ৬-৪ গোলে হারলেও, ওলিসে ভেঙে দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের ৫৬ বছরের পুরনো রেকর্ড। এই টুর্নামেন্টে মোট সাতটি অ্যাসিস্ট করে তিনি এখন বিশ্বকাপের নতুন অ্যাসিস্ট-রাজা।
ম্যাচটিতে প্রথমার্ধে ফ্রান্স ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালায়। ৪৮তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের প্রথম গোল এবং ৬৬তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল—দুটির কারিগরই ছিলেন ওলিসে। এই দুই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে চলতি আসরে তার মোট অ্যাসিস্টের সংখ্যা সাতটিতে পৌঁছায়। এর আগে ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে পেলে ৪ গোল ও ৬ অ্যাসিস্ট করেছিলেন, যা ৫৬ বছর ধরে অটুট ছিল। ২৪ বছর বয়সী ওলিসে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন নজির স্থাপন করলেন।
বায়ার্ন মিউনিখের এই তারকা পুরো বিশ্বকাপজুড়েই ফ্রান্সের আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছেন। তার করা সাতটি অ্যাসিস্টের মধ্যে পাঁচটি থেকেই গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই যুগলবন্দি বিশ্বকাপের এক আসরে নির্দিষ্ট দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ গোল-অ্যাসিস্ট সমন্বয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে।
তবে ওলিসের এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা কিছুটা অদ্ভুত পরিসংখ্যানের সাক্ষী হয়ে থাকল। পুরো টুর্নামেন্টে মাঠজুড়ে সৃজনশীলতার ছাপ রাখলেও নিজে কোনো গোল করতে পারেননি তিনি। গোলশূন্য থেকেই বিশ্বকাপ শেষ করতে হলেও, মাঠের পারফরম্যান্সে পেলের মতো কিংবদন্তিকে পেছনে ফেলে ওলিসে প্রমাণ করেছেন যে ফুটবলের ইতিহাসে গোলদাতাদের পাশাপাশি গোলদাতাদের কারিগরদের অবদানও সমান গুরুত্বপূর্ণ।