বিশ্বফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট কার মাথায় উঠবে, তা নির্ধারণ করতে অবশেষে নিউ জার্সিতে মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। চলতি আসরের সবচেয়ে ধারাবাহিক ও সেরা দুটি দলের এই ফাইনাল কেবল দুই দেশের লড়াই নয়, বরং ফুটবলীয় কৌশলের এক পরম প্রদর্শনী। এবারের ফাইনালের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে দুই দলের রসায়নে। একদিকে স্পেন যেন এক নিখুঁত ও সুশৃঙ্খল 'ইঞ্জিন', যেখানে লা রোহাদের প্রতিটি খেলোয়াড় নিজের ভূমিকা খুব ভালো করেই জানেন এবং দলের স্বার্থে মাঠের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করেন। স্পেনের এই দলে হয়তো একক কোনো মহাতারকা নেই, তবে তাদের আত্মত্যাগ আর নিখুঁত টেকনিক্যাল দক্ষতার সামনে প্রতিপক্ষ দল নিরুপায় হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনা দেখিয়েছে তাদের সেই চিরচেনা লড়াকু মনোভাব। ইংলিশদের আগ্রাসনের মুখে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তনে ম্যাচ জিতে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। আর এই প্রত্যাবর্তনের নেপথ্যের কারিগর ছিলেন স্বয়ং লিওনেল মেসি, যার দুটি জাদুকরী অ্যাসিস্ট পুরো দলকে এক সুতোয় বেঁধেছে এবং গোটা আর্জেন্টাইন জাতিকে জাগিয়ে তুলেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কার হাতে উঠছে ট্রফি? স্পেন কি দুই বছর আগের ইউরো জয়ের মুকুটের পাশে এবার বিশ্বজয়ের নতুন পালক যোগ করবে? নাকি ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুবার বিশ্বকাপ ধরে রাখার অনন্য রেকর্ড গড়বে আর্জেন্টিনা? মাঠের ট্রফি যার ঘরেই যাক না কেন, নিউ জার্সির এই মহাযুদ্ধের ভাগ্য গড়ে দেবে সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিগত দ্বৈরথ।
প্রথম দ্বৈরথটি হবে রদ্রি বনাম এনজো ফার্নান্দেজ ও ম্যাক অ্যালিস্টারের মধ্যে। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই ফুটবলপ্রেমীদের মনে একটা বিশ্বাস ছিল যে, সেমিফাইনালে ফ্রান্সের গতিদানবদের কেবল স্পেনই রুখতে পারত, আর সেটা সম্ভব হয়েছিল কারণ তাদের রক্ষণভাগের ঠিক সামনে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন রদ্রি। গত দুই বছর ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকাকে চোট বেশ ভুগিয়েছে, তবে ফরাসিবাহিনীর বিরুদ্ধে মাঝমাঠে ব্যালন ডি'অর জয়ী এই মায়েস্ত্রো যেভাবে ফুটবলীয় মাস্টারক্লাস দেখিয়েছেন, তাতে স্পষ্ট যে তিনি নিজের সেরা ছন্দে ফিরে এসেছেন। আর্জেন্টিনার মাঝমাঠে অবশ্য আগ্রাসন কিংবা শারীরিক সক্ষমতার কোনো অভাব নেই। লা রোহাদের এই প্রাণভোমরার রিদম ভেঙে দেওয়ার সমস্ত রসদ আলবিসেলেস্তেদের আছে, তবে কাজটা পুরোপুরি নির্ভর করছে এনজো ফার্নান্দেজ এবং অ্যালেক্সিস মাক অ্যালিস্টারের ওপর। এই জুটিকে এক মুহূর্তের জন্যও রদ্রিকে চোখের আড়াল করা চলবে না।
রদ্রি যদি বল পায়ে একটুও সময় বা জায়গা পেয়ে যান, তবে সেমিফাইনালের মতোই পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের বুটের তলায় নিয়ে নেবেন। আর্জেন্টিনার বড় স্বস্তি হলো, অলরাউন্ডার এনজো আর অ্যালিস্টার কেবল রদ্রিকে বোতলবন্দি করতেই নামবেন না, বরং রদ্রি ও তার মিডফিল্ড পার্টনার ফ্যাবিয়ান রুইজের রক্ষণাত্মক দুর্গ কাঁপিয়ে দেওয়ার সামর্থ্যও তাদের আছে। চলতি আসরে এনজো হয়তো সব ম্যাচে একভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি, কিন্তু মিশর ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মহাগুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার গোলগুলো প্রমাণ করে বড় মঞ্চে তিনি কতটা ভয়ংকর। অন্যদিকে, ইংলিশদের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে ম্যাক অ্যালিস্টারের দুটি শট পোস্টে লেগে ফিরে না এলে ম্যাচের গল্পটা অন্যরকম হতে পারত। কাতার ২০২২ বিশ্বকাপের সেই অতিমানবীয় রূপটা এই দুই ত্রাতা ঠিক ফাইনালের আগেই ফিরে পেয়েছেন, যা লিওনেল স্কালোনির জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দ্বৈরথটি গোলপোস্টের নিচে উনাই সিমন বনাম এমিলিয়ানো মার্তিনেজের। টুর্নামেন্টে যদি শুধু গোল না খাওয়ার পরিসংখ্যানের দিকে তাকানো হয়, তবে আর্জেন্টিনার চেয়ে স্পেনের গোলকিপার অনেক এগিয়ে। পুরো টুর্নামেন্টে উনাই সিমন গোল হজম করেছেন মাত্র একটি। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার জাল সাতবার কেঁপেছে, এমনকি গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর মার্তিনেজ আর কোনো ম্যাচেই ক্লিন শিট রাখতে পারেননি। কিন্তু ফাইনালে কার প্রভাব বেশি থাকবে—এই বাজিতে মার্তিনেজেরই পাল্লা ভারী থাকবে। তাকে পছন্দ করুন আর নাই করুন, অবিশ্বাস্য সব শট-স্টপিং আর মাঠের ভেতর স্নায়ু কাঁপানো মনস্তাত্ত্বিক কৌশলে প্রতিপক্ষকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দেওয়ার এক অদ্ভুত জাদুকরী ক্ষমতা এই আর্জেন্টাইন প্রাচীরের আছে।
বিপরীতে স্পেনের উনাই সিমন একটু নিভৃতে কাজ করতে পছন্দ করেন, আর সম্ভবত এই কারণেই তিনি বড্ড অবমূল্যায়িত। তবে এটাও সত্যি যে, টুর্নামেন্টে স্পেনের রক্ষণভাগ এতটাই নিরেট ছিল যে সিমনকে খুব বেশি কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি। পরিসংখ্যান তার পক্ষে কথা বললেও, খোদ স্পেন সমর্থকদের একাংশের দাবি—বার্সেলোনার এক নম্বর গোলকিপার জোয়ান গার্সিয়া কিংবা আর্সেনালের ডেভিড রায়া টেকনিক্যালি সিমনের চেয়েও ভালো। তবে রক্ষণভাগের শতভাগ নিরেট দেওয়াল ভেদ করে নিউ জার্সির ফাইনালে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ যে উনাই সিমনকে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষায় ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।
তৃতীয় লড়াইটি মিকেল ওইয়ারজাবাল বনাম হুলিয়ান আলভারেস অথবা লাউতারো মার্তিনেজের। মাঠের পজিশনের বিচারের এটি সরাসরি মুখোমুখি লড়াই না হলেও, মিকেল ওইয়ারজাবাল এবং হুলিয়ান আলভারেজ নিজ নিজ দলের জন্য প্রায় একই ভূমিকা পালন করেন। ফাইনালে এই দুজনের মধ্যে কে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্বজয়ের হাসি। আর্জেন্টিনার হুলিয়ান আলভারেজ এবার ঠিক নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। অবশ্য টুর্নামেন্টের শুরুতে চোটের কারণে তার এই মন্থর গতি মেনে নেওয়া যায়; তাছাড়া সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে তার সেই দর্শনীয় গোলটি মনে করিয়ে দেয়—সামান্য সময় আর ফাঁকা জায়গা পেলে এই তরুণ কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন।
তবে ফাইনালের আগে কোচ লিওনেল স্কালোনিকে এক বড় মধুর সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বদলি হিসেবে নেমে লাউতারো মার্তিনেজের সেই জয়সূচক বুলেট হেড আলবিসেলেস্তে শিবিরে নতুন হাওয়া দিয়েছে। ফলে অফ-ফর্মে থাকা আলভারেজকে সরিয়ে মার্তিনেজকে শুরুর একাদশে ফেরানোর একটা প্রবল চাপ থাকবে।
চতুর্থ দ্বৈরথটি লিওনেল মেসি বনাম মার্ক কুকুরেয়ার। ফাইনালে লিওনেল মেসি যে একদম প্রথাবদ্ধ উইঙ্গার হিসেবে খেলবেন না, তা নিশ্চিত। কিন্তু ৩৯ বছর বয়সে এসেও এই বিশ্বকাপে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, মাঠের দুই প্রান্ত ব্যবহার করে এখনো তিনিই বিশ্বের অন্যতম সেরা কার্যকর উইঙ্গার। বল পায়ে আগের সেই অতিমানবীয় গতি হয়তো এখন আর মেসির নেই, কিন্তু তার চেনা ড্রিবলিংয়ের মারপ্যাঁচে যেকোনো ফুল-ব্যাককে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দেওয়া কিংবা বক্সে মাপা ক্রস ফেলার জাদুকরী ক্ষমতা এখনো একটুও কমেনি।
গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজও স্বীকার করেছেন, কোচ লিওনেল স্কালোনি মেসিকে ডান প্রান্তে সরিয়ে নেওয়ার পরই মিশর ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মহাকাব্যিক জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। তাতে নিউ জার্সিতে স্পেনের রক্ষণভাগের বাকিদের চেয়ে মার্ক কুকুরেয়াকে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, ম্যাচজুড়েই ১০ নম্বর জার্সিধারী এই মহাজাদুকর বারবার ডান প্রান্তে এসে কুকুরেয়ার ডিফেন্সিভ জোন কাঁপানোর চেষ্টা করবেন।
তবে এই লড়াইয়ের মুদ্রার একটা ওপিঠও আছে। মেসি মাঠে রক্ষণাত্মক দায়িত্ব প্রায় পালন করেনই না বললেই চলে। আর মেসির এই নিচে না নামার সুযোগটা পুরোপুরি লুফে নিতে পারেন অতিমাত্রায় আক্রমণাত্মক মানসিকতার কুকুরেয়া। চলতি টুর্নামেন্টে স্পেনের ফাইনাল যাত্রায় ওভারল্যাপ করে ওপরে উঠে কুকুরেয়া যেভাবে একের পর এক আক্রমণ শানিয়েছেন, তা স্পেনের অন্যতম বড় শক্তির জায়গা। স্বভাবতই, স্কালোনি তার মাঝমাঠের ডান প্রান্তের প্রহরী—রদ্রিগো দে পল কিংবা সমান আগ্রাসী জুলিয়ানো সিমেওনেকে বিশেষ দায়িত্ব দেবেন। লক্ষ্য একটাই, কুকুরেয়া যাতে ওপরে উঠে আক্রমণ করতে না পারেন এবং তাকে ডিফেন্সে ব্যস্ত রেখে মেসিকে যেন জাদুকরী সব পাস বাড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ও সময় তৈরি করে দেওয়া যায়।
পঞ্চম দ্বৈরথটি লামিন ইয়ামাল বনাম নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর। চলতি বিশ্বকাপে লামিন ইয়ামালের সেই অতিমানবীয় রূপটা এখনো পুরোপুরি দেখা যায়নি। তবে বার্সেলোনার এই ১৯ বছর বয়সি উইঙ্গার মাঝেমধ্যেই তার অবিশ্বাস্য ড্রিবলিংয়ের ঝলক দেখিয়েছেন। কেপ ভার্দের বিপক্ষে সেই ধাক্কা খাওয়া ড্রয়ের পর, যখন তাকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে বেঞ্চ থেকে নামানো হয়, প্রথম গোলটি করে তিনিই স্পেনের বিশ্বকাপ অভিযানকে ট্র্যাকে ফিরিয়েছিলেন। তবে ইয়ামাল নিজেও স্বীকার করেছেন, নিজের জন্য তিনি যে আকাশচুম্বী মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন, এই টুর্নামেন্টে চোট আর অতিমাত্রায় নিজেকে প্রমাণ করার মানসিক চাপের কারণে সেই প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করতে পারেননি।
কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ১৯ বছর বয়সি তরুণের আত্মবিশ্বাসে বিন্দুমাত্র চির ধরেনি। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই তার মনে এই দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, মহাগুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেই তার সেরাটা বেরিয়ে আসবে। আর ফাইনালই হতে পারে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ—কারণ কাগজের কলমে ইয়ামাল বনাম নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর লড়াইটা এক চরম অসম দ্বৈরথ মনে হচ্ছে।
অবশ্য ৩৩ বছর বয়সি আর্জেন্টাইন লেফটব্যাক তাগলিয়াফিকোর ঝুলিতে আছে অভিজ্ঞতার বিশাল ভাণ্ডার। আর্জেন্টিনার হয়ে ৭৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই ডিফেন্ডার কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে উসমান দেম্বেলেকে এতটাই বোতলবন্দি করে রেখেছিলেন যে, প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ফরাসি উইঙ্গারকে তুলে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন দিদিয়র দেশঁ। তবে ছন্দ আর ফিটনেস নিয়ে যতই টানাপোড়েন থাকুক না কেন, ২০২৬ সালের এই ইয়ামাল কিন্তু ২০২২ সালের দেম্বেলে নন—তিনি একেবারেই অন্য ধাতুতে গড়া। ফরাসি ক্লাব লিওঁর অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তাগলিয়াফিকো যদি মাঝমাঠ থেকে এনজো কিংবা ডান পাশ থেকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের কাছ থেকে নিরেট সাহায্য না পান, তবে ডানপ্রান্তে ইয়ামালের গতি আর ড্রিবলিংয়ের ঝড়ে তার রক্ষণভাগ স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়ে যেতে পারে।
ষষ্ঠ এবং শেষ দ্বৈরথটি দুই কোচের—লুইস দে লা ফুয়েন্তে বনাম লিওনেল স্কালোনি। মাঠের ১১ জনের লড়াই যতই রোমাঞ্চকর হোক না কেন, ফাইনালের ভাগ্য আসলে নির্ধারিত হবে ডাগআউটে বসা দুই মাস্টারমাইন্ডের ট্যাকটিক্যাল দাবার চালে। স্পেনের লুইস দে লা ফুয়েন্তে এবং আর্জেন্টিনার লিওনেল স্কালোনি—দুজনের সামনেই ভিন্ন দুই চ্যালেঞ্জ। অবশ্য মিকেল মেরিনোকে বেশ কয়েকবার শেষ মুহূর্তের ত্রাতা হিসেবে গোল করতে হয়েছে, তবে তাতেই প্রমাণিত হয় দে লা ফুয়েন্তে তার স্কোয়াডের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে কতটা ক্ষুধার্ত ও চাঙ্গা রাখতে পেরেছেন।
বার্সেলোনা তারকা পেদ্রিকে বেঞ্চে বসিয়ে ফ্যাবিয়ান রুইজেরর ওপর আস্থা রাখার মতো এক সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল পণ্ডিতদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথম গোল করা কিংবা ফ্রান্সের বিরুদ্ধে রদ্রির পাশে মাঝমাঠ আগলে রাখা—রুইস প্রতি ম্যাচেই কোচের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া বদলি খেলোয়াড় নামানোর জন্য লিওনেল স্কালোনি প্রচুর বাহবা পেয়েছেন।
তবে এটাও সত্যি যে, সেমিফাইনালের আগ পর্যন্ত আলবিসেলেস্তে কোচের সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে খোদ আর্জেন্টিনা শিবিরেই তীব্র প্রশ্ন উঠছিল। গ্রুপ পর্বে দলটিকে বড্ড বেশি মেসি-নির্ভর মনে হয়েছিল। এমনকি কেপ ভার্দে, মিশর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অত্যন্ত ভাগ্যপ্রসূত এবং অসংলগ্ন জয়ের ম্যাচগুলোতে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের রসায়ন মোটেও ঠিকঠাক লাগেনি। সেই বিচারে, ফাইনালের আগে স্কালোনিকে অনেক বেশি মাথা ঘামাতে হবে। কারণ দে লা ফুয়েন্তের হাতে এখন এক গোছানো, ভারসাম্যপূর্ণ এবং উইনিং কম্বিনেশনের দল আছে—যারা ফ্রান্সের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে নিখুঁত ফুটবল খেলে এসেছে।
তাই ম্যাচের প্রথম বাঁশি থেকেই স্কালোনির ওপর সঠিক কৌশল বেছে নেওয়ার এক প্রবল মনস্তাত্ত্বিক চাপ থাকবে। কারণ, মেসি হয়তো একজন অলৌকিক জাদুকর এবং আর্জেন্টিনার কামব্যাক করার ক্ষমতাও তার অবিশ্বাস্য; কিন্তু ফাইনালে স্পেনের এই সুশৃঙ্খল দলের বিরুদ্ধে একবার পিছিয়ে পড়লে, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো আলবিসেলেস্তেদের জন্য অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে।
১. রদ্রি বনাম এনজো ফার্নান্দেজ ও ম্যাক অ্যালিস্টার
৩. মিকেল ওইয়ারজাবাল বনাম হুলিয়ান আলভারেস/অথবা লাউতারো মার্তিনেজ