ফুটবল যদি কেবল রূপকথা হতো, তবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সেই বিকেলটি লিওনেল মেসির জন্য অন্যরকম হতে পারত। ও যা করেছে, তা স্রেফ জাদুকরী। ৬ নম্বর বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছিলেন মেসি। কিন্তু বাস্তবে ট্রফি মঞ্চে রানার্সআপ মেডেল গলায় ঝোলানোর সময় মেসির চোখে ছিল নোনা জলের ধারা। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হওয়ার পর নীল-সাদা স্বপ্নগুলো যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল। এই কান্না কি কেবল একটি ট্রফি হারানোর বিষাদ, নাকি এক মহাকাব্যের শেষ অধ্যায়ের ইঙ্গিত?
ফক্স স্পোর্টসের স্টুডিওতে বসে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ এবং থিয়েরি অঁরি মেসির এই বিদায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইব্রাহিমোভিচ বলেন, এই বিশ্বকাপে মেসিকে আমরা মন ভরে উপভোগ করেছি। কোয়ার্টার ফাইনাল আর সেমিফাইনালে গোল না পেলেও বানিয়ে দিলেন ৩টি গোল। বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও তিনি একাই দলকে টেনে নিয়ে গেছেন এবং তার পারফরম্যান্স ছিল জাদুকরী। এবারের আসরে মেসি ৮টি গোল করেছেন এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন। এই ৮ গোল মিলিয়ে বিশ্বকাপে মেসির মোট গোল এখন ২১। গ্রুপ পর্ব শেষে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়েছিলেন, যা পরে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নিজের করে নেন।
ফাইনালে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স নিয়ে অঁরি বলেন, মেসির বিপক্ষে বাজি ধরা যায় না, তবে আর্জেন্টিনাকে হারাতে স্পেনের মতো একটি শক্তিশালী দলের প্রয়োজন ছিল। ডেনমার্কের সাবেক গোলকিপার ক্যাসপার স্মাইকেল মনে করেন, বিশ্বকাপের ট্রফি দিয়ে মেসির মতো ফুটবলারকে বিচার করা বোকামি। তাঁর মতে, মেসি ফুটবল খেলাটিকে যা দিয়েছেন, তার কোনো তুলনা হয় না। সাবেক মার্কিন তারকা অ্যালেক্সি লালাস এবং ইংল্যান্ডের পিটার ক্রাউচও একই সুর মিলিয়েছেন। ক্রাউচ বলেন, স্পেনের বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়রা মেসিকে দেখেই অনুপ্রাণিত হয়েছে। আর এটাই যদি ওর শেষ বিদায় হয়, তবে মনে রাখতে হবে আমরা ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফুটবলারটিকে বিদায় জানালাম। ১১টা সেভ, তবু আর্জেন্টিনাকে বাঁচাতে পারলেন না মার্তিনেজ।
পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে মেসির কান্নার দৃশ্যটি ভাইরাল হওয়ার পর অঁরি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, এই কান্না প্রমাণ করে দেশের প্রতি মেসির প্যাশন এবং জেতার ক্ষুধা কতটা প্রবল। ইব্রাহিমোভিচ অবশ্য আশা ছাড়েননি। তিনি বলেন, মেসি যত দিন সম্ভব খেলা চালিয়ে যাক, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। মেসি পরের বিশ্বকাপে থাকবেন কি না, তা নিশ্চিত নয়, তবে তিনি মাঠে আছেন বলেই ফুটবলপ্রেমীরা আনন্দ পায়।