ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে অবস্থিত ‘প্রয়াস’ নামক একটি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে মো. ফোরকান নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পাঁচ দিন আগে তাকে সেখানে ভর্তি করা হয়েছিল। গত মঙ্গলবার রাতে এই মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে। ফোরকান মিয়া জেলার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর গ্রামের মো. রশিদ মিয়ার ছেলে এবং তিনি কাতার প্রবাসী ছিলেন।
নিহত যুবকের বড় ভাই মো. ইমন মিয়া জানান, বিদেশ থেকে ফেরার পর ফোরকান মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। গত শুক্রবার ৭০ হাজার টাকা চুক্তিতে তিন মাসের জন্য তাকে ওই কেন্দ্রে ভর্তি করা হয় এবং শুরুতে ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কেন্দ্র থেকে তাদের জানানো হয় যে ফোরকান অসুস্থ এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।
ইমন মিয়া আরও বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ফোরকানকে পাওয়া যায়নি। পরে পুনর্বাসন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডে রাখা একটি লাশবাহী গাড়িতে তার ভাইয়ের মরদেহ রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পুনর্বাসন কেন্দ্রের লোকজন অফিস তালাবদ্ধ করে চলে গিয়েছিল। পরে ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশের সহায়তায় লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
তবে পুনর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক মো. রুবেল দাবি করেছেন, ফোরকান বাথরুমে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছিলেন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাজমুল হক রনি জানিয়েছেন, ফোরকানকে মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।