মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বা যোগদানের বিষয়ে পাকিস্তান প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে আয়োজিত পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি জানান, অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থ ও যৌথ দায়বদ্ধতায় বিশ্বাসী কোনো দেশ যদি এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে, তবে তা সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পরামর্শ সাপেক্ষে বিবেচনা করা হবে।
তাহির আন্দ্রাবি আরও বলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি মূলত একটি প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো, যার মূল লক্ষ্য আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং শান্তি বজায় রাখা। এটি একটি বিকাশমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে সেসব দেশের জন্য উন্মুক্ত, যারা যৌথ দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। তবে মুখপাত্র উল্লেখ করেন যে, এই চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও এই চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, চুক্তির সদস্যদেশগুলো যদি বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করে, তবে ঢাকা বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখবে। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে এ চুক্তিতে যোগ দেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়ার আগে চুক্তির ভালো-মন্দ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সময় এখনো আসেনি। তিনি মক্কা চুক্তিকে মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরীণ আত্মরক্ষার একটি ব্যবস্থা হিসেবে অভিহিত করে জানান, এটি নিয়ে অন্য কোনো দেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদও মক্কা চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানিয়েছিলেন।
ইসলামাবাদ বলছে, অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থ ও যৌথ দায়বদ্ধতায় বিশ্বাসী কোনো দেশ চুক্তিতে যোগ দিতে আগ্রহ দেখালে বিষয়টি সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পরামর্শ করে বিবেচনা করা হবে।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ইসলামাবাদে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে