কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পদ্মা নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। এতে তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা। উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৫০ হাজারের বেশি মানুষ এখন পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাময়িকভাবে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ০২ মিটার, যা বিপৎসীমার (১৩.৮০ মিটার) মাত্র ৭৮ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। অন্যদিকে উপজেলার ভাগজত পয়েন্টে পানির উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৯০ মিটারে, যেখানে বিপৎসীমা ১৫ দশমিক ৫২ মিটার। এ পয়েন্টে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ১৭ সেন্টিমিটার করে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হঠাৎ পানি বাড়ায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ সড়ক তলিয়ে গেছে। ফলে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে এই দুই ইউনিয়নের যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্যার পানি চিলমারী, রামকৃষ্ণপুর, ফিলিপনগর ও মরিচা এলাকার ফসলি জমিতে ঢুকে পড়েছে। এতে রোপা আমন ধান, মরিচ ও কলাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বসতবাড়ির কাছাকাছি পানি চলে আসায় গবাদিপশুর নিরাপত্তা, গো-খাদ্য এবং বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান পরিস্থিতি বর্ণনা করে বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হঠাৎ পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ায় ইউনিয়নের সবকটি গ্রাম ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে নিয়মিত জানানো হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করতে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহম্মেদ জানান, যাতায়াতের ঝুঁকি এড়াতে বন্যাকবলিত এলাকার ১৮টি বিদ্যালয়ে (১৬টি প্রাথমিক ও ২টি মাধ্যমিক) সাময়িকভাবে পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে বিদ্যালয় ভবনগুলো খোলা রাখা হয়েছে, যাতে বন্যার্ত গৃহহীন মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে পারেন। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ জানান, প্রশাসন পুরো পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখছে। পানিবন্দি মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং ইতিমধ্যে চিলমারী ইউনিয়নের অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে সীমিত পরিসরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।