ভারত প্রীতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য দেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ভারত একটি প্রতিবেশী দেশ এবং তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ভালো করতে কাজ করছে বাংলাদেশ। তবে প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ ও ডিনারে ভারতের চিন্তা করলে নিজের দেশের কথা কখন ভাবা হবে, এমন প্রশ্ন তুলে তিনি দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ভারত একটি ভিন্ন দেশ, তাই ভারতের ফ্যাসিনেশন থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।
ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন করে সাজাতে চায়। গত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী, দুর্নীতিগ্রস্ত ও লুটেরা সরকারের সঙ্গে যে অস্বস্তিকর সম্পর্ক ছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে নতুন সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, ভারতের সঙ্গে প্রথম আলোচনা সরাসরি দ্বিপক্ষীয় সফরের মাধ্যমেই হওয়া সবচেয়ে ভালো। বহুপাক্ষিক ফোরামের চেয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই সম্পর্ক পুনর্গঠন করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন, কোনো বহুপাক্ষিক অনুষ্ঠানে গেলে কারও সঙ্গে বৈঠক হবে না এমন কথা তিনি কখনো বলেননি, বরং তার বক্তব্য ছিল ভারতের ক্ষেত্রে। সাংবাদিকদের শব্দ ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সীমান্তে সাম্প্রতিক হতাহতের ঘটনা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করা হবে। আন্তর্জাতিক আইন, সীমান্তবিষয়ক প্রটোকল এবং দুই দেশের চুক্তি মেনেই প্রতিটি পর্যায়ে এসব উদ্বেগ তুলে ধরা হবে। এছাড়া ১০১টি চুক্তি পুনর্নিরীক্ষণের বিষয়টি সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিষয়টি চিফ হুইপের আওতাধীন হওয়ায় তিনিই এ বিষয়ে সঠিক উত্তর দিতে পারবেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১শে সেপ্টেম্বর রওনা হবেন এবং ২৬শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউ ইয়র্কে অবস্থান করবেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশের নতুন রূপ ও ভবিষ্যৎ ভাবনা তুলে ধরবেন। বিশ্বশান্তি, টেকসই সমাধান, দারিদ্র্য দূরীকরণ, স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন আশার সৃষ্টি এবং জলবায়ু সুরক্ষায় বাংলাদেশের নেতৃত্বের বিষয়গুলো তার বক্তব্যে থাকবে। জলবায়ু অর্থায়ন ও তহবিলের দাবিও সেখানে থাকবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, সাইডলাইনের বৈঠকগুলো অনেক সময় শেষ মুহূর্তে ঠিক হয়, তাই এখনই চূড়ান্ত তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নিয়োগকে তিনি অত্যন্ত দুঃখজনক ও বিতর্কিত বলে মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্বৈরাচারী সরকার স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তাকে ওই পদে বসিয়েছিল এবং তার প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা ছিল না। স্বৈরাচারী আমলে জালিয়াতি, তথ্য গোপন ও প্রভাব খাটিয়ে তাকে ওই পদে বসানো হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সঙ্গে কাজ করছে। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একটি অংশীদারিত্ব তৈরি হয়েছে এবং অন্যান্য দেশের আইনি ও ফরেনসিক দক্ষতা সম্পন্নদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় জনগণের চুরি হওয়া টাকা ও সম্পদ বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে তা কোনো ব্যক্তির পকেটে না দিয়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।