কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় একই সঙ্গে চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদের দায়িত্ব একা সামলে চলেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস। নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং পাকুন্দিয়া পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করছেন। কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধির শূন্যতায় তৈরি হওয়া এই বিশাল চাপ সামলাতে প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত তাঁকে কাজ করতে হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রূপম দাস ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর পর ২০২৬ সালের ৩ আগস্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান বদলি হয়ে গেলে সেই পদের অতিরিক্ত দায়িত্বও তাঁর ওপর ন্যস্ত করা হয়। এর আগে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পাকুন্দিয়া পৌরসভার মেয়রের পদ দুটি শূন্য হলে এই দুই প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দায়িত্বও তাঁর কাঁধে অর্পণ করা হয়।
একসঙ্গে চার দপ্তরের দায়িত্ব সামলানো প্রশাসনিকভাবে অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। নিয়মিত তদারকি ছাড়াও ভূমি অফিসের নথি নিষ্পত্তি, উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কাজ, পৌরসভার নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিতে হচ্ছে তাঁকে। প্রতিদিনের নিয়মিত কাজ শেষেও রূপম দাসকে তাঁর বাংলো অফিসে রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ফাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। এর বাইরে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন সভা, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সরকারি কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি।
অতিরিক্ত এই কাজের চাপ নিয়ে ইউএনও রূপম দাস জানান, চার দপ্তরের দায়িত্ব পালন করা খুবই কঠিন কাজ। তবে জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে তিনি বদ্ধপরিকর। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নতুন কোনো সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদায়ন করা হলে তাঁর ওপর থেকে কাজের এই বিপুল চাপ অনেকটাই কমে যেত। এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি সেবা প্রত্যাশীদের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
উপজেলায় সেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম জানান, ইউএনও অফিসে এসে তিনি দ্রুত পরামর্শ ও সেবা পেয়েছেন। তবে শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা হলে সাধারণ মানুষের জন্য সেবা নেওয়া আরও সহজ হতো বলে তিনি মনে করেন।
স্থানীয় সাংবাদিক হারিছ আহমেদের মতে, কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধির সংকটে স্থানীয় প্রশাসনের ওপর এক অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিষয়টিকে কেবল একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত কর্মদক্ষতার উদাহরণ হিসেবে না দেখে, প্রশাসনিক কাঠামোর একটি বাস্তব সংকট হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও আশঙ্কা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সহ অন্যান্য শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া না হলে দীর্ঘমেয়াদে নাগরিক সেবার স্বাভাবিক গতি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।