নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নামের এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া আটটার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার তেলনজিয়া এলাকায় বাড়ির নিকটবর্তী একটি চায়ের দোকানের সামনে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত লুৎফুজ্জামান বেসরকারি ইন্টারনেট প্রটোকল টেলিভিশন (আইপিটিভি) চ্যানেল 'রূপসী বাংলা'র নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'ডিটেকটিভ আর্টিকেল' নামের একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন লুৎফুজ্জামান। ওই পেজে তিনি স্থানীয় নানা অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরে লেখালেখি করতেন। তাঁর স্থায়ী বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে। এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর দুপুরে দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তদের কোপে গুরুতর জখম হন তিনি। সে সময় তাঁকে রক্ষায় এক সহকর্মী এগিয়ে এলে অস্ত্র দেখিয়ে তাকেও ধাওয়া দিয়েছিল হামলাকারীরা।
তেলনজিয়া এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী চা-দোকানি রবিন রাংছা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, লুৎফুজ্জামান চা পান শেষ করে দোকান ছেড়ে বাসার উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু ভুলবশত মোবাইল ফোন দোকানে ফেলে যাওয়ায় তিনি আবার তা নিতে ফিরে আসেন। ওই সময় রবিন চায়ের কাপ পরিষ্কার করছিলেন। ঠিক তখনই দুই যুবক দোকানে এসে প্রথমে cigarette চায় এবং আচমকা লুৎফুজ্জামানকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি চালায়। গুলির শব্দে আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে এলে দুই হামলাকারী অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে তেলনজিয়া গ্রামের অনিন্দিতা সংমাকে বিয়ে করেন লুৎফুজ্জামান। এই দম্পতির চার বছরের একটি কন্যাসন্তান ও দেড় বছর বয়সি একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। ভাইয়ের মৃত্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করে লুৎফুজ্জামানের বড় বোন কল্পনা আক্তার ও ভাই ছাদেক ফকির বলেন, সত্য প্রকাশ ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করার কারণেই তাঁকে জীবন দিতে হলো। তাঁরা অবিলম্বে জড়িত ঘাতকদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করে আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযান পরিচালনা করছে।