জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে চলমান বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। শনিবার প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে সরকারি ভবনে হামলা, দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। শান্তিপূর্ণ মিছিলের পাশাপাশি কিছু এলাকায় সহিংসতা পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে। প্যারিসের রিপাবলিক চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এছাড়া মার্সেই শহরে পৌরসভা ভবনে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর, লিলে শহরে মেয়রের কার্যালয়ের কক্ষের ক্ষতিসাধন এবং লিয়োঁ শহরে পর্যটন কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটেছে। কিছু এলাকায় গাড়ি ও আবর্জনার পাত্রে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সহিংসতার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শনিবার ফেসবুকে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, ফরাসি প্রজাতন্ত্রে সহিংসতার কোনো স্থান নেই। যারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের চেষ্টা করেছেন এবং প্রিফেকচার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পৌরসভা ভবন লুট করেছেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, জাতি শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার রক্ষায় দায়িত্বরত বাহিনীর পাশে রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের দপ্তর জানায়, শনিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত দেশজুড়ে ২৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা চূড়ান্ত নয়। বিক্ষোভের অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়েও সরকারি হিসাব ও আয়োজকদের দাবির মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্যারিসের বাইরে ১৪০টি কর্মসূচিতে দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৩২ হাজার ৮০০ জন অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে, শ্রমিক সংগঠন সিজিটি দেশজুড়ে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ অংশ নেওয়ার দাবি করেছে।
চলমান এই আন্দোলনের মূল কারণ জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম ও সামাজিক বৈষম্য নিয়ে অসন্তোষ। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি নিয়ে শিক্ষার্থীরাও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কিছু গোষ্ঠীসহ শিক্ষার্থী ও শ্রমিকরা এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। সরকারের সামনে এখন একদিকে আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষা এবং জনঅসন্তোষের কারণগুলো মোকাবিলা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভের মধ্যে প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ, দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাট এবং সরকারি ভবনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) কয়েকটি শহরে শান্তিপূর্ণ মিছিলের পাশাপাশি সহিংসতার ঘটনা পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে। এ অবস্থায় সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করে