ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রধান ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (এসবিআই) গ্রাহকদের গোপন তথ্য হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ‘সিরিউসিম’ নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী এই সাইবার হামলার দাবি করেছে। ব্যাংকটি গ্রাহকদের তথ্য ফাঁসের বিষয়টি আংশিকভাবে স্বীকারও করে নিয়েছে। হ্যাকারদের কবলে পড়া তথ্যের মধ্যে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত পরিচিতি, ঋণের আবেদন, অ্যাকাউন্ট খোলার নথিপত্র এবং অন্যান্য সহায়ক নথিপত্র রয়েছে বলে জানা গেছে।
গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এসবিআই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যেসব গ্রাহক এই তথ্য চুরির শিকার হয়েছেন, তাদের ই-মেইল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে। ব্যাংকটি বিবৃতিতে পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে, গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট এবং তহবিল বর্তমানে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত আছে। উল্লেখ্য, এসবিআই ভারতের বৃহত্তম এবং বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ব্যাংক হিসেবে পরিচিত, যার গ্রাহক সংখ্যা ৫০ কোটিরও বেশি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ‘সাইবারপালস৫৬’ হ্যান্ডল থেকে প্রথম এই বড় ধরনের হ্যাকিংয়ের তথ্য সামনে আনা হয়। তাদের তথ্যমতে, ভারতের বৃহত্তম এই রাষ্ট্রায়ত্ত ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার তথ্য বিভিন্নভাবে বাইরে বেরিয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ১৬ অক্টোবর থেকে এই দাবি প্রচার করা হচ্ছে। তবে ঠিক কতজন গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা এই তথ্য ফাঁসের প্রকৃত উৎস কী, তা এখনো নিশ্চিতভাবে যাচাই করা হয়নি। একই ব্যক্তির একাধিক রেকর্ড থাকার সম্ভাবনা থাকায় প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা কঠিন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, চুরি হওয়া এই তথ্য ব্যবহার করে পরিচয় জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণের আবেদনসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হতে পারে। ভারতের দেড় শ কোটি মানুষের এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ এসবিআইয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এটি দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যাংক বিশেষজ্ঞরা।
ভারতে সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই এই ঘটনাটি সামনে এল। চলতি বছরের শুরুর দিকে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে নিয়মকানুন আরও কঠোর করেছে। বর্তমানে এসবিআইয়ের সিস্টেমে কোনো অনুপ্রবেশ ঘটেছে কি না বা নথিপত্রগুলো সরাসরি ব্যাংক থেকেই চুরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে স্বাধীনভাবে তদন্ত চলছে। তদন্ত করে যাবতীয় তথ্য সামনে আনতে কিছুটা সময় লাগা স্বাভাবিক বলে মনে করছেন সাইবার নিরাপত্তাবিশেষজ্ঞরা।