ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলমান ছাত্র-যুব বিক্ষোভের কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) শহরের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বাহির পথ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে অফিসগামী যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ডিএমআরসি জানায়, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ডাকা ছাত্র ও যুব বিক্ষোভকে ঘিরে নিরাপত্তাজনিত কারণে ব্লু, ইয়েলো ও ভায়োলেট লাইনের বেশ কয়েকটি স্টেশনের গেট বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্ধ থাকা স্টেশনগুলোর তালিকায় রয়েছে লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, প্যাটেল চক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারখাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ এবং শিবাজি স্টেডিয়াম।
তবে ডিএমআরসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজীব চক, মান্ডি হাউস ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনে যাত্রীদের ট্রেন পরিবর্তনের (ইন্টারচেঞ্জ) সুবিধা চালু রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্টেশনগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া হবে, যদিও এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
স্টেশনগুলোর গেট বন্ধ থাকলেও ট্রেনগুলো তাদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল করছে এবং স্টেশনে থামছে। তবে স্টেশনের বাইরে পুলিশি ব্যারিকেডের কারণে যাত্রীরা বেশ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেক যাত্রী গন্তব্যে পৌঁছাতে বিকল্প স্টেশনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মান্ডি হাউসসহ বিভিন্ন স্টেশনের বাইরে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে এবং গেট বন্ধ থাকায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে যাত্রীদের বাগবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেছে। অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে বাইক ট্যাক্সি বা বিকল্প যানবাহনের সহায়তা নিচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বন্ধ থাকা স্টেশনগুলোর বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।