জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মধ্যে একটি অডিও কথোপকথন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ উপস্থাপন করা হয়েছে। মামলার চতুর্থ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন এই অডিওটি ট্রাইব্যুনালে বাজিয়ে শোনান।
কথোপকথনে ওবায়দুল কাদেরকে বলতে শোনা যায়, যারা কথা শুনবে না, তাদের টিভি চ্যানেলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এর জবাবে আরাফাত জানান, তিনি গতকালই দুই-একটি চ্যানেল বন্ধ করেছেন এবং যারা নির্দেশ অমান্য করবে, তাদের সাথে সাথে বন্ধ করে দেওয়া হবে। ওবায়দুল কাদের তখন নির্দেশনা দেন, ‘আজকে যেন কোনো সংঘাতের খবর না দেয়।’
এর উত্তরে আরাফাত বলেন, ‘আজকেও ওদেরকে বলছি যে, আজকে যদি কোনো ক্ল্যাশের বা মারামারির ভিডিও ফুটেজ বা ছবি দেখায়, ওদেরকে এনিমি অব দ্য স্টেট হিসেবে ডিক্লেয়ার করা হবে এবং সারা জীবনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে। আমি থ্রেট করে রাখছি আজকে।’ তিনি আরও জানান, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তিনি নিয়মিত নজরদারি করছেন এবং কোনো টিভি চ্যানেল সংঘাতের ছবি দেখালে তার অনুমতি ছাড়াই যেন সাথে সাথে সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়, সেই নির্দেশও তিনি দিয়ে রেখেছেন।
আরাফাত জানান, তিনি তখন নেত্রীকে ব্রিফিং করার জন্য যাচ্ছিলেন। ওবায়দুল কাদেরের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কোটা আন্দোলনকারী ছাত্ররা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। একভাগ সরাসরি আলোচনার টেবিলে আছে, আর অন্যভাগে জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাসীরা অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে। সরকারের কৌশল হিসেবে তিনি জানান, আন্দোলনকারী ছাত্রদের সাথে তারা সফট সলিউশনের দিকে এগোচ্ছেন এবং জামায়াত-বিএনপির বিরুদ্ধে কারফিউর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আলোচনা শেষে ওবায়দুল কাদের তাকে গণভবনে দেখা করতে বলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় ওবায়দুল কাদের ও মোহাম্মদ আলী আরাফাত ছাড়াও অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান, সাদ্দাম হোসেন এবং শেখ ওয়ালী আসিফ। মামলার সব আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।